রাজধানী ঢাকার অন্যতম বৃহৎ কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বহু মানুষ রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এই করুণ চিত্রের মাঝেও এক ব্যক্তির দৃঢ়তা ও অসহায়ত্বের গল্প বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সব কিছু হারিয়েও তিনি নিজের পোড়া ভিটেমাটি ছাড়তে পারেননি, যেখানে একসময় তার সব ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর ছবিটি দেখলে বোঝা যায়, ঘর বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই— চারদিকে শুধু দগ্ধ টিন, কাঠ এবং ছাইয়ের স্তূপ। তবুও, সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই এক ব্যক্তিকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে, শরীর জড়ানো একটি কম্বলে। জানা গেছে, সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ওই ব্যক্তি সেখানেই রয়ে গেছেন। এই পোড়া ঘরই এখন তার একমাত্র আশ্রয়।
অগ্নিকাণ্ড বস্তিবাসীর জীবনকে মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। অনেক পরিবার সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার আশায় অস্থায়ী শিবিরে বা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিলেও, এই ব্যক্তি যেন এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তার এই পোড়া ঘরের প্রতি আসক্তি বা ঘর না ছাড়ার পেছনে লুকিয়ে আছে সীমাহীন অসহায়তা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হয়তো তার সামান্য সম্পত্তি রক্ষার্থে বা এই স্থান থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে ভিটেমাটি আঁকড়ে রয়েছেন। বস্তির এই দরিদ্র মানুষটির হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য বা সুযোগ নেই। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মানসিক আঘাতও তাকে স্থান ত্যাগ করতে বাধা দিচ্ছে।
এই ছবিটি কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের দুর্দশার এক প্রতীকী চিত্র। জানা যায় এ পর্যন্ত জামায়াত ছাড়া কেউই তাদের এগিয়ে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উচিত দ্রুত এই ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে একটি নিরাপদ ও মানবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া।